অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার
চিরকাল নীরবে যাঁরা লোক-সাহিত্যের সাধনা করেছেন, তাঁরা মূলত: নিভৃতচারী। তেমনি একজন মানুষ হলেন নগেন সরকার। পুরো নাম ডা: নগেন্দ্র চন্দ্র সরকার। তিনি নগেন ডাক্তার এবং ডাক্তারবাবু বলেও পরিচিত। কলমাকান্দার এক নিবিড় গ্রাম ধীতপুর। এ বাড়ীর প্রাণ-পুরুষ নগেন ডাক্তার। সম্প্রতি তিনি ১০৩ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেছেন(২৪/০৭/২০১৯ খ্রি:)। পেশায় তিনি ছিলেন একজন রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসক। তবে হোমিওর পাশাপাশি এলোপ্যাথিক চিকিৎসাও করতেন। গ্রাম বাংলায় ডাক্তারের বড়ই অভাব। শত শত বছর ধরে বাংলার গ্রামীণ মানুষ গ্রামীণ ডাক্তারদের উপর নির্ভরশীল থেকেছেন। কমলাকান্দা পোগলা ইউনিয়নের ১০/১২টি গ্রামের লোকজন এককালে নগেন ডাক্তারের চিকিৎসার উপর ভরসা করে থাকতেন।
ডাক্তারিটা তাঁর কাছে ছিলো এক প্রকার সমাজসেবা। টাকা-পয়সার হিসাবটা তিনি কোনোদিনই করেননি। তাঁর জন্ম হয়েছিলো বাংলা ১৩২৪ সনে অর্থাৎ ছাব্বিশ সনের বানের দু’বছর আগে চারুলিয়ার বিখ্যাত সরকার বাড়ীতে। যাঁদের ধনে-জনে সহায় সম্পদে এলাকায় ছিলো ব্যাপক খ্যাতি- সেই বৃটিশ আমল থেকেই। তিন-খন্ডের বাড়ীতে দোল-দুর্গোৎসব দু’টোরই প্রচলন ছিলো। তাঁর পিতার নাম স্বর্গীয় দীগেন্দ্র চন্দ্র সরকার এবং মাতা ছিলেন স্বর্গীয়া হিরণবালা চৌধুরী। জন্মের ৯ মাস বয়সের সময় নগেন ডাক্তার মাতৃহারা হন। মামার বাড়ী ছিলো চারুলিয়ার পার্শ্ববর্তী গ্রাম ধীতপুরে। মাতৃহারা শিশুটিকে মামা রমেশ চন্দ্র চৌধুরী নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসেন। ফলে ধীতপুরের প্রতি টান ছিলো তাঁর বেশী এবং শেষ পর্যন্ত তিনি ধীতপুর গ্রামেই নিজ বাসস্থান গড়ে তোলেন। তাঁর নিজ হাতে গড়া বাড়ীটিকে এলাকার মানুষ ‘ডাক্তার বাড়ী’ বলেই চেনে। তিনি বিয়ে করেছিলেন- নেত্রকোণা সদরের পাঁচপাই গ্রামের বিখ্যাত খাসখিল বাড়ীতে। স্বর্গীয় দেবেন্দ্র চন্দ্র খাসনবীশ এবং স্বর্গীয়া সুরবালা খাসনবীশের জ্যেষ্ঠ কন্যা সন্ধ্যা রানী খাসনবীশের সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসারে ৪ পুত্র এবং ২ কন্যার আগমন ঘটে।
তন্মধ্যে ৩য় পুত্র মৃদুল সরকার মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঘমারা শরণার্থী শিবিরে এক রাত্রের কলেরায় মারা যায় এবং কনিষ্ঠ পুত্র মাদল সরকার টলটল ২০০৫ সালে চাকুররিত অবস্থায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ! বর্তমানে তাঁর ২ পুত্র ও ২ কন্যা রয়েছে। প্রফেসর ননীগোপাল সরকার (প্রবন্ধকার) তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র। অপর পুত্র ডা: বেনুগোপাল সরকার পল্লী চিকিৎসক হিসেবে ধীতপুর গ্রামের বাড়ীতে আছেন। অমায়িক এই মানুষটির একটি নেশা ছিলো- গান করা। সুরেলা কন্ঠে তিনি পদকীর্তন এবং পুঁথিপাঠ করতে পারতেন। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে টানা ৩০ দিন দ্বিজবংশী দাশের লেখা পদ্মপুরাণ পাঠ করতেন গ্রামের লোকজনদেরকে নিয়ে। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ তা শুনতেন। তিনি নিজে পদ্মপুরাণের অনেক দিশা ও সুর করেছেন। যেগুলো এখনও অনুসরণ করা হয়। সুরের এক বিচিত্র কারুকাজ এনেছিলেন তাঁরই নিজস্ব পদ্মপুরাণ গাওয়ার স্টাইলে।
তিনি যেমন লিখেছেন পদাবলী কীর্তন তেমনি লিখেছেন বাউল ও কবি গান। তাঁর লেখা বাউল ও কীর্তন গানের সংখ্যা তিন শতাধিক। এ সবের কিছু কিছু তিনি তাঁর সুন্দর হাতের লেখায় নিজ ডায়রীতে লিখে গেছেন। অধিকাংশ গান হারিয়ে গেছে। তবে এখনও এলাকার মানুষেরা তাঁর সেইসব গান গেয়ে থাকেন। তিনি নিজে যেমন গান রচনা করেছেন তেমনি বিভিন্ন বাউল কবি ও কীর্তনীয়াদের লেখা গানও সংগ্রহ করেছেন। তিনি নিজে বাউল দ্বীন শরতের যে দু’শতাধিক গান নিজ হাতে লিখে এনেছিলেন শরতের কাছ থেকে, এগুলোই অন্ধ বাউলকবি শরতের শেষ চিহ্ন। অন্যথায় শরতের গান বিলুপ্ত হয়ে যেতো।
এ প্রসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাউল গবেষক গোলাম এরশাদুর রহমান তাঁর রচিত ‘নেত্রকোণার বাউল গীতিকা’ গ্রন্থে বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। শরতের যেসকল গান তিনি তাঁর লেখা পুঁথিতে রেখেছিলেন, সেই পুঁথিটি পরবর্তীতালে নেত্রকোণা শিকড়ের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আপেল নিয়ে যান এবং যতদূর জানা যায়- তা থেকে তিনি একটি বইও প্রকাশ করেছেন। অবশ্য বইটি আজও আমার হাতে আসেনি। আর সেই হাতে-লিখা পুঁথিটি এখনও জনাব আপেলের নিকট সংরক্ষিত আছে। শরত ছাড়া তিনি বাউল আব্দুল করিম, উকিল মুন্সী, চাঁন মিয়া, আলী হোসেন, রাধারমণ প্রমুখ বাউলের গান সংগ্রহ করেছিলেন। উল্লেখ্য, প্রতি বছর তাঁর বাড়ীতে নিজ ডিসপেনসারিতে হালখাতা অনুষ্ঠিত হতো। এতে বাউল, কবি এবং যাত্রা গান হতো। ফলে তিনি নিজ বাড়ীতেই নেত্রকোণা-সুনামগঞ্জ এলাকার বাউলদের সাথে সরাসরিভাবে পরিচিত ছিলেন।
বাউল গান ছাড়াও তিনি কবিগান খুব পছন্দ করতেন। এমনকি দু’টি কবি গানের পালা তিনি লিখে গেছেন। পালা দু’টি হলো- উগ্র ধনঞ্জয় পালা এবং কৃষ্ণ শ্রীদাম পালা। আমার কাছে পালা দু’টির পান্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে। এবার বইমেলায় (ফেব্রুয়ারী-২০২০) তাঁর রচিত গান ও কবিপালা নিয়ে বিভাস প্রকাশনী থেকে মুদ্রিত হয়েছে ‘কবি গান, বাউল ও পদকীর্তন’। এতে ২টি কবি গানের পালা, ১৭টি বাউল গান এবং ২৬টি পদকীর্তন রয়েছে। পরিতাপের বিষয় যে, ১০৩ বছর বেঁচে থাকার পরও আমি বইটি তাঁর হাতে তুলে দিতে পারিনি। পুত্র হিসেবে বিষয়টি আমার কাছে কতটা মর্ম-পীড়াদায়ক-পাঠকমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন।
নগেন সরকারের কবিগান : সাধারণত: কবিগানের পালা, লেখা অবস্থায় পাওয়া যায় না। বাংলা
একাডেমিতে কবি গান নিয়ে বিস্তর গবেষণা ও দেশের জেলা ওয়ারী কবি গানের পুস্তক মুদ্রণ করা হয়েছে। সেখানে অনেক কবির লেখা গানের কিছু কিছু নমুনা রয়েছে এবং সেগুলো কবি গানের ঐতিহ্য রক্ষায় খুবই মূল্যবান দলিল। আমার জানা মতে, নগেন সরকারের লেখা দুটি পালাই কবি গানের ক্ষেত্রে মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ পালা। কবিগান তো আসরের পর আসর চলতে থাকে। এমনই শুনেছি , চারুলিয়া কালীবাড়ীতে টানা তিনদিন কবি গান চলেছিলো। শ্রোতারা শেষ করতে দিতে চাইতেন না। আর কবিদের মুখে মুখে রচনা করা কথার বিশাল ভান্ডার যেনো ফুরাতে চাইতো না। এক পর্যায়ে কবিগণ দর্শকদের অনুমতি নিয়ে সমাপ্ত করতেন কবির লড়াই।
কবি গান সম্পর্কে নিজ বইয়ের প্রারম্ভে নগেন সরকার লিখেছেন-
“শতাব্দীর পূর্ব থেকেই বাংলাদেশে, বিশেষ করে পূর্ব বাংলায় কবি গানের খুবই প্রচলন ছিল। এ দেশের রাজা, জমিদার ও ধনী সম্প্রদায় হিন্দুগণ কোন দেবদেবীর পূজা পার্বণে অথবা যে কোন উৎসবে কবি গানই বেশী পছন্দ করতেন। বিশেষত কবিগানটা সর্বদাই হিন্দু শাস্ত্র নিয়েই দুইজন কবিয়াল শাস্ত্র আলোচনা, কথার কাটাকাটি করতেন। তাহাতে রঙ রহস্যও ছিল, শ্রোতাদেরও আমোদ লাগত। তাই কবিয়ালদের তৎপরতা খুবই বেশী ছিল। শতাব্দী পূর্বে এ দেশের প্রসিদ্ধ কবিয়াল ছিলেন রামু, রামগতি, রাম কানাই; তাঁহারা ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার অধিবাসী। নেত্রকোণা জেলার বাংলা গ্রামের বিজয় আচার্য্য একজন নামকরা শাস্ত্রজ্ঞ কবিয়াল ছিলেন। তিনিও শতাব্দীর পূর্বের কবিয়াল। তাঁহার সমকক্ষ ছিলেন বেতাটি গ্রামের কালী কুমার ধর; তিনি আমার আত্মীয় মামা শ^শুর ছিলেন। তিনির পরে জৈনপুরের ক্ষেত্র মোহন, বাংলার মদন আচার্য্য, মো: সাধু সরকার, জামধলার ব্রজেন্দ্র সরকার, রাম সুন্দর, বেতাটির আবুল সরকার, ঈশান তাঁহারা সকলেই ছিলেন নেত্রকোণা জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে যাত্রা, নাটক এবং বাউল গানে কবিগানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। কবিগান এখন আর লোকে পছন্দ করে না। তাই এটা লুপ্ত প্রায় হয়ে গেছে। বর্তমানে সেই বিষয়গুলি পুনরুজ্জীবিত রাখার উদ্যোগে মো: আপেল মিয়ার অনুরোধে কবিগানের ধারণামূলক দু’একটি পালা লিখতে আরম্ভ করলাম। ইহাতে অনেক ভুল ত্রæটি হতে পারে। বিশেষ করে ৭২ বৎসর বয়সে বার্ধক্য অবস্থায় চোখের ও মাথার শক্তি কমে গেছে। তাই পাঠকগণ ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।”
তিনি আরো লিখেছেন—-
“কবিগানের ধারণা : উল্লেখ্য যে, কবিগান কেবল হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র নিয়ে দুই কবিয়াল পর্যায়ক্রমে পালা করে কথারসের প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর কাটাকাটি হত। তাহাতে দলীয় লোকে কবিয়ালের কথাগুলি গান গেয়ে আসরে প্রকাশ করত; দলীয় লোকের তাল যন্ত্র ছিল- ঢোল, হারমোনিয়াম, করতাল, কাঁসি ইত্যাদি। একজন কবিয়াল প্রথমে আসরে উঠে কালী মাতার বন্দনা গাইতেন। বিপক্ষের কবিয়ালকে যেসব প্রশ্ন করতেন তাহা দলীয় লোক দ্বারা সুর ধরে গাওয়াইতেন। পরে কবিয়াল কথায়, ত্রিপদী ও পয়ার ছন্দে ধ্রæপদী গাইয়ে তাঁহার পালা শেষ করে আসর হতে প্রথম বিদায় নিতেন। অত:পর দ্বিতীয় কবিয়াল পূর্বোক্তভাবেই দেবীর বন্দনা শেষ করে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতেন। এভাবেই শুরু হতো পর্যায়ক্রমে পালা।”
বিশেষত: পালা শেষে দু’কবি মিলে জুরী গাইতেন। তাতেও ছিলো প্রচুর রঙ্গরস। নগেন সরকার তাঁর দু’টি পালা শেষে যে দু’টি জুরী লিখেছেন -তার একটি নিম্নরূপ:
“ধনঞ্জয় : দিশা: নেংটা হইয়া নাচেরে ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
ধনঞ্জয় : শুন ওগো মা জননী বলি যে তোমারে।
এখন আমি বাড়ি যাবো, বিদায় দেও আমারে।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
মহাদেব: এক বছর পরে আইলা নাতিরারে লইয়া।
দুইচারদিন থাইক্যা পরে যাইবা যে চলিয়া।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
ধনঞ্জয় : চারদিন গত হইল আইলাম, খালি ঘর রাখিয়া।
তোমার জামাইরে মাগো কে দিবে রান্ধিয়া।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
মহাদেব: জামাই বেটার খাওয়ার জন্য চিন্তা করিও না।
ভাং ধুতরা থাকলে জামাইর, আর কিছু লাগে না।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
ধনঞ্জয় : তোমার জামাই কেমন রাগী তুমিত জানো না।
দেরী করে গেলে আমায়, ঘরে তো তুলবে না।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
মহাদেব: আদর করে রাখতে চাই ঝিয়ে নাহি মানে।
আইজ-কাইলের ছেইড়াইনে কেবল, জামাইর টানই টানে।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
ধনঞ্জয় : পরের ঘরে দিছো যখন জানিয়া শুনিয়া
সেইখানেতেই থাকতে হবে, পরকে আপন কইরা।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
মহাদেব: যাইতে যদি হবে ঝিগো বলি যে তোমারে।
কার্তিকটারে থুইয়া যাওনা, যাইব চারদিন পরে।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
ধনঞ্জয় : কার্তিকটারে থুইয়া আমি থাকতে তো পারবো না।
রাখতে যদি চাও মাগো, গণেশকে রাখোনা।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
মহাদেব: গণেশটারে রাখতে আমার মনে নাহি চায়।
লম্বা শুরটা দিয়া রাত্রে, আমার কমড়টা হাতায়।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
ধনঞ্জয় : কমড়টা হাতায় তোমার বোট্টাডা বিচরায়।
দুইটাচারটা পইসা নিতো , বিস্কুট খাইবার দায়।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই
মহাদেব: গণেশটার ভাব ভালানা বলি যে তোমায়।
বোট্টাডা থুইয়া সেজে কৌট্টাডা হাতায়।।
ও গৌরী তোর পাগলা জামাই”
নগেন সরকারের বাউল গান : তিনি বাউল গানে গুরুবাদ, দেহতত্ত¡ এবং অধাত্মবাদের প্রাধান্য দিয়েছেন অধিক। যেমন তাঁর একটি বাউল গান-
“দয়াল গুরু বিনে বন্ধু কেহ নাইরে এ সংসারে।
মনরে সময় থাকতে ভজ তারে নাম জপ সদাই রে।।
গুরু যে নিদানের বন্ধু পার করিবেন ভব সিন্ধু রে।
তোর গণার দিন ফুরাইয়া গেলো চিন্তা করো তাই রে।।
স্ত্রীপুত্র টাকা কড়ি তাই নিয়ে তোর বাহাদুরী রে।
মনরে সবেই তোমার থাকবে পড়ি যেদিন করবে গৃহের বাইর রে।।
মন তোরে বিনয় করি চাঁদ বদনে বলো হরি রে।
তোর শমণ তরী ঘাটে বাঁধা পাবে না রেহাই রে।।
কি করিতে ভবে আইলে সেই কথা কি ভুলে গেলে রে।
সময় হারা হয়ে নগেন, ভাসে নয়ন জলে রে।।”
নগেন সরকারের কীর্তন গান : কীর্তন গানে তাঁর ভক্তিবাদ অত্যন্ত সুষ্পষ্ট। তবে রাধা-কৃষ্ণের বিরহগীতি কিংবা কৃষ্ণ-শ্রীদাম বিরহগীতি খুব আকর্ষণীয়। যেমন তাঁর একটি বিরহমূলক কীর্তণ গান নিম্নরূপ-
“আমার মনে যত আছে দু:খ, রাই জানে আর আমি জানি।
শ্রীদাম তোর কারণে বৃন্দাবনে, রাধার ঋণে আমি ঋণী।।
বিরজার কুঞ্জদ্বারে, শাপ দিলে তুই শ্রীরাধারে, শ্রীদাম রে।
তখন শত বৎসর ব্রজেতে রাই কাঁদলো রে।
তাইতো আমার হলো দেনা, এ জীবনে শোধ হইল না,
নিয়ে রাধা নামের উপাসনা, ঘুরে বেড়াই দিনযামিনী।।
রাধা আমার প্রেমের গুরু, সে যে বাঞ্চাপূর্ণ কল্পতরু, শ্রীদাম রে।
তোর কারণে আমার এতো কষ্ট রে।
আমি যার কারণে গোলক ছাড়ি, গোক‚লে হই বংশীধারী,
আমি রাধা বিনে রইতে নারি, নগেনের প্রাণ বিনোদিনী।”
লোককবি নগেন সরকার তাঁর সহজ-সরল প্রাণে গ্রাম-বাংলার লোকমানসকে ধারণ করেছিলেন। তিনি একদিকে যেমন ডাক্তারী পেশায় জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছেছিলেন তেমনি জনগণের হৃদয়কে ষ্পর্শ করতে পেরেছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে ২৪ জুলাই ১০৩ বছর বয়সে ধীতপুর নিজ বাড়িতে ইহলোক ত্যাগ করেন। তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করি। (পুন:মুদ্রণ)
(সমাপ্ত)