গবেষক আহমেদ সামির
জন্ম: বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত ১৯৩২ সনের ১ ভাদ্র নেত্রকোণা শহরের উপকন্ঠে নুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক ও কর্ম জীবন: বাবু জগদীশ দত্ত কর্মজীবন শুরু করেন পারলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে কিন্তু শিক্ষক পেশাকে ছড়িয়ে তিনি হয়ে উঠলেন একজন সংষ্কৃতি ও রাজনীতি কর্মী। পিতার হাত ধরে কংগ্রেস রাজনীতির সাথে যুক্ত হলেও পরে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি যোগদেন আওয়ামী লীগে। সারা জীবন এ দলের সাথেই যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলন শুরু হলে যুক্ত হয়ে পড়েন এ আন্দোলনে। বাঙালির প্রতিটা স্বাধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন তিনি অগ্র সৈনিক। হোমিওপ্যাথি ডাক্তারি কোর্স করে দুস্থ মানুষের সেবায়ও নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক: রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৬৩ সনের জানুয়ারি মাসে মধুমাছি কচিকাঁচার মেলার উপদেষ্টা মন্ডলীর সম্মানীত সদস্য ছিলেন । মধুমাছি কচিকাঁচার মেলার প্রধান উদ্যেক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মেলার পরিচালক হিসেবে ছিলেন জনাব এডভোকেট একে ফজলুল কাদের, আর উপদেষ্টা মন্ডলীতে অন্য যারা ছিলেন- সর্বজনাব এন আই খান,জনাব আব্দুল খালেক, জনাব খালেকদাদ চৌধুরী, এডভোকেট ফজলুর রহমান খান,মাওলানা ফজলুর রহমান খান,হাবিবুর রহমান খান প্রমুখ। জনাব মেহের আলী[১][২] [৩][৪]শামসুজ্জোহাকে [৫]আহ্ববায়ক ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আয়েশা খানমকে আহ্ববায়িকা করে কমিটি গঠন করে দেন। তিনি একজন অসাধারণ নাট্যকর্মী হিসেবে নেত্রকোণা অঞ্চলের মানুষের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। নেত্রকোণা মধুমাচি কচিঁ কাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠায় তিনি যুক্ত থেকে শিশুদের মাঝে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বিকাশ ঘটিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান: ১৯৭১ সালে মহকুমা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগদেন। মহেশখলা ইয়ুথ ক্যাম্পের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন মুক্তিযুদ্ধে। মহেশখলা ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী ও ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ। জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী মাত্র ২ মাস মহেশখলা ক্যাম্পের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ও তবে চৌধুরী সাহেব সুনামগঞ্জের এমপি বিধায় পরবর্তীতে তিনি টেকেরঘাট ক্যাম্পে চলে যান।মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরো সময়জুরে নেত্রকোণার ভাটি অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা রিক্রটমেন্টের মূল দায়িত্ব পালন করেন মহেশখলা ক্যাম্পের সভাপতি ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ। ফলে মহেষখলা ক্যাম্পে আগত দু’লাখের উপর শরণার্থী, মুক্তিযোদ্ধা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার গুরু দায়িত্ব পালন করতে হয় ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ ও তাঁর সহযোগীদেরকে। ১১ সদস্য বিশিষ্ট মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা পরিষদের সম্মানীত সদস্য যারা ছিলেন – মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব নেত্রকোণার ১. ডা: আখলাকুল হোসাইন আহমেদ(সভাপতি-জুন – ডিসেম্বর), ২. সুনামগন্জের(ধর্মপাশা) আব্দুল হেকিম চৌধুরী(সভাপতি-এপ্রিল – জুন),৩. এডভোকেট কে এম ফজলুল কাদের(নেত্রকোণা), ৪. বাংলা একাডেমী ও একুশে পদক প্রাপ্ত সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী, ৫. মোঃ মেহের আলী ( নেত্রকোণা সদর), ৬. ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত,(নেত্রকোণা সদর),৭. জনাব আব্দুল কুদ্দুস আজাদ(মোহনগঞ্জ), ৮. জনাব নুরুজ্জামান চিশতী(বারহাট্টা),৯. জনাব মারাজ মিয়া চেয়ারম্যান,১০. জনাব ইনসান উদ্দিন খান(বারহাট্টা), ১১. আব্দুল বারী তলুকদার(নেত্রকোণা সদর) । পরবর্তীতে জনাব আব্দুল হেকিম চৌধুরী টেকেরঘাট ক্যাম্পে চলে যান । উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মমিন -এমপি, নেত্রকোনার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক এমপি, কিশোরগঞ্জের এমপি আব্দুল কাদের, নেত্রকোনার হাদিছ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মহেষখলা হয়ে ইন্ডিয়া চলে যান এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন স্থানে মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দায়িত্ত্ব পালন করতে থাকেন। ভারতীয় বিএসএফ অফিসার ক্যাপ্টেন চৌহান মাঝে মাঝে মহিষখলা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসতেন। ক্যাম্পের বিশাল দায়িত্ব পালনের জন্যে বিভিন্ন কমিটি করে দেয়া হয়। সে সব উপ কমিটির সদস্য যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন সর্বজনাব – ধর্মপাশার শওকত আলী, মণীন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী, খালিয়াজুড়ির বিমলেন্দ্র রায় চৌধুরী, রাজাপুরের মহারাজ মিয়া, মোহনগঞ্জের প্রিন্সিপ্যাল তারা মিয়া, মহরম আলী, বিষ্ণুপুরের অক্ষয় কুমারসহ, বংশীকুন্ডার হামিদপুরের আলী আকবর, সানুয়ার বসন্ত দাশ গুপ্ত, মোহনপুরের দিলু মড়ল, রাফায়েল মাস্টার, বনগাঁর আব্দুল হক, কার্তিকপুরের রাইজুদ্দিন মেম্বার, মহিষখলার কালা মিয়া মড়ল, আব্দুর রশিদ, শ্রীপুরের সুধীর চন্দ্র হাজং, সুমাই গিরি,বারহাট্টার সেকান্দর নূরী, সাউদপাড়ার ইয়াকুব আলী পঞ্চায়েত, কালীপুরের শাহাব উদ্দিন মহালদার, মোহনপুরের কেনারাম হাজং, হরিপদ বানাই, রামপুরের ছমির ফকির প্রমুখ। পরবর্তীতে ক্যাম্পের কাজকে তরান্বিত ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা , অর্থ, খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্যসামগ্রী সংগহ এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করে বিভিন্ন ক্যাম্পে দ্রুত ট্রেনিংয়ের জন্যে পাঠানোর লক্ষ্যে প্রতিটি থানা ও গ্রামে গ্রামে মুক্তিসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে দেয়া হয় । মহিষখলা ফরেস্ট অফিসের নিকট স্থাপন করা হয় মুজিব বাহিনী ক্যাম্প। সর্বজনাব গোলাম এরশাদুর রহমান ও হায়দার জাহান চৌধুরী ছিলেন মুজিব বাহিনী নেত্রকোণা জোনের কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার। আর তোরার নিকটস্থ খেরাপাড়া ছিল মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর। খেরাপাড়াতে ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ জোয়ারদার বাবুল নেত্রকোণার পক্ষে কর্মরত ছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশের প্রখ্যাত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব ছিলেন নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ,শেরপুর,জামালপুর ও টাঙ্গাইল নিয়ে গঠিত অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিনায়ক। মুজিব বাহিনীর মহিষখলা ক্যাম্পের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সর্বজনাব রুহুল আমীন (নেত্রকোণা সরকারী কলেজের বর্তমান সিনিয়র প্রভাষক), মোহনগঞ্জের প্রাক্তন জাসদ নেতা গোলাম রব্বানী চৌধুরী, এ,কে,এম আশ্রাব আলী (আবুল কুরেশ) ও সচিব উজ্জ্বল কুমার দত্ত। কিছুদিনের জন্য শিবগঞ্জ রোডের স্বনামধন্য কৌতুকাভিনেতা সিরাজ উদ্দিন, মতিয়র রহমান তালুকদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রেজভী ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। এখানেই এই ক্যাম্পে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে রিক্রুট করে উন্নত গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সিনিয়রদেরকে দেরাদুন এর তান্ডুয়া আর জুনিয়রদের আসামের হাফলং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হতো। মুজিব বহিনীর প্রশিক্ষণ মুক্তিবাহিনী অপেক্ষা ভিন্নতর ছিল। মুজিব বাহিনী পরিচালনার জন্য সকল ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হতো তৃণমূলের কমান্ড স্ট্রাকচার। ফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব মুজিব বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়। মুজিব বাহিনী ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী জনযুদ্ধের জয়লাভের পরিকল্পনার ফসল।” মহেষখলা ক্যাম্পে নেত্রকোণার ব্যাংক টাকা সংগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো। সেকান্দর নুরী ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে অহেতুক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন । নুরীর বিরুদ্ধে বহু নিরপরাধ মানুষকে হত্যা,নির্যাতন,র্ধষন ও বহু লুটের অভিযোগ ছিল) । এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগের অত্যন্ত সৎ ও নির্ভীক কর্মী জনাব মেহের আলীকে নুরীর লোকেরা হত্যা করে ।জনাব মেহের আলী ছিলেন নেত্রকোনা মুক্তিসংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য ও মহেষখলা ক্যাম্প পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য,নেত্রকোনা মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি( বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন), জেলা শ্রমিকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অন্যতম স্থপতি, মধুমাছি কচিকাঁচার মেলার প্রধান উদ্যেক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক এবং জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম ও কৃষিবিষয়ক সম্পাদক’৭১পর্যন্ত।(ষাটের দশকে ছাত্রদের পর শ্রমিক ও কৃষক গোষ্ঠী সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। এই দুটি গোষ্ঠী নেত্রকোণায় স্বাধিকার আন্দোলন,সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।) বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী নেত্রকোণার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মধ্যে একমাত্র শহীদ এবং শহীদ বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে অন্যতম (সরকার নির্ধারিত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংজ্ঞা অনুযায়ী) যিনি বীর মুক্তিমুযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৭ই মে মহেষখলা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন কালে শহীদ হন । মুক্তিযুদ্ধের খরচ ও যুদ্ধ পরিচালনার জন্যে জাতীয় প্রয়োজনে জয়বাংলা বাহিনীর প্রধান কোম্পানী কমান্ডার সাবেক আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুজ্জোহার নেতৃত্তে বীরমুক্তিযোদ্ধা বুলবুল ইপিআর সদস্যসহ অন্যান্যদরকে নিয়ে অস্ত্রাগার ও নেত্রকোণার ন্যাশনাল ব্যাংকের Volt ভেঙ্গে টাকা পয়সা , সোনা সংগ্রহ করেন (“মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোনা” বইটিতে সাবসেক্টর কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন)। মেহের আলীকে হত্যার পরপরই বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: শামসুজ্জোহা ও মোহনগঞ্জের আমীর উদ্দিন আহমেদকেও গ্রেফতার করা হয় হত্যার জন্যে। সৌভাগ্যক্রমে তারা প্রাণে বেচে যান। স্মরণীয় যে, স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৭ দিনের মধ্যে পরবর্তীকালে সেকান্দর নুরী নিহত হয়েছিলেন। কেউ কেউ মনে করেন, এটি ছিলো জনাব মেহের আলী হত্যার অনিবার্য পরিণতি।এরূপ প্রেক্ষাপটে উদ্ভত জটিল পরিস্থিতিকে মহেশখলা ক্যাম্পের সভাপতির নেতৃত্বে ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত অত্যন্ত মেধা ও ধৈর্যের সাথে অন্যান্য নেতৃবৃন্দদেরকে সঙ্গে নিয়ে উদ্বুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি পরিবার নিয়ে বেশ অনেক বছর বড় বাজার এলাকায় ছিলেন এবং পরে নাগড়ায় দত্ত ভিলা প্রতিষ্ঠা করে সেখানে চলে আসেন। ছেলে মেয়েদের শিক্ষায় ও মননে খুব উচচমান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সন্তানরা সবাই দেশ-বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে।
মৃত্যু: শেষ জীবনে তিনি নাগড়া ছেড়ে কানাডায় যান মেয়েদের কাছে এবং সেখানেই (মন্ট্রিলে) তিনি ৭ জুলাই ২০১৩ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলেন ৮৯ বছর। তিনি ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে সন্তান, স্ত্রী ও বহু বন্ধু বান্ধব, গুণগ্রাহী রেখে যান
পুরষ্কার ও সম্মানণা: ষাটের দশকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য “Bangladesh Muktijudho Research Institute[৬] [৭][৮][৯][১০]Silver Award-2023” সম্মাননা প্রদানের জন্যে মনোনীত করা হয়।