গবেষক আহমেদ সামির
জনাব আজিম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন ভাষাসৈনিক। পিতা-শমসের আলী, মাতা- তাহমিনা রতিজনের সন্তান। ঠিকানাঃ নাটেরকোনা,পূর্বধলা, নেত্রকোণা। ছয় ছেলে ও তিন মেয়ের জনক আজিম উদ্দিন আহমেদ।
শিক্ষাঃ জনাব আজিম উদ্দিন আহমেদ[1] Anjuman Adarsha Government High School-এ শিক্ষা জীবন শুরু করেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবনঃ জনাব আজিম উদ্দিন আহমেদ শিক্ষা ও রাজনৈতিক তালিম নেন যথাক্রমে ভাষা সৈনিক সাংবাদিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী ও সাবেক এম.পি আব্দুল খালেক সাহেবের কাছ থেকে। জনাব উদ্দিন দীর্ঘ ২১/২২ বছর (১৯৪৭-১৯৬৯ পর্যন্ত) নেত্রকোণার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মধ্যে একমাত্র শহীদ এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলীদের [2]বাড়ীতে ছিলেন।এরপর তিনি জারিয়ায় চলে যান এবং জারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন।উল্লেখ্য যে,শহীদ মেহের আলীদের বাড়ী থেকেই নেত্রকোনা তেভাগা আন্দোলন ও ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ত দিয়েছেন তমদ্দুন মজলিসের নেত্রকোনা শাখার সভাপতি, “একুশে পদক” প্রাপ্ত সাহিত্যিক এবং বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতাষ্ঠাতা সভাপতি ভাষা সৈনিক সাংবাদিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী[3]। এই বাড়ীতে তিনি ৮-১০ বছর ছিলেন। নেত্রকোণা জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী সাবেক এম.পি আব্দুল খালেক সাহেবও[4] দীর্ঘ ১০/১২ বছর এই বাড়ীতে ছিলেন এবং এখান থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতি হতে দলীয় রাজনীতির নেতৃত্বে উঠে আসেন।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে জনাব আজিম উদ্দিন আহমেদ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।তিনি তৎকালীন মহকুমা মুসলিম ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। তার সহযোদ্ধা যারা ছিলেন তারা হলেন – ভাষা সৈনিক সর্বজনাব প্রদ্যোথ নাথ ভাদুড়ী, প্রদীপনাথ ভাদুড়ী,কামাল উদ্দীন আহমেদ,শহীদ মেহের আলী ,কবি আল আযাদ,আব্দুল আলী তালুকদার প্রমুখ। “ভাষা সংগ্রামে নেত্রকোনা স্মারক গ্রন্থের “নেত্রকোনায় মহান ভাষা আন্দোলন” প্রবন্ধে ভাষা সৈনিক শাহ আব্দুল মোতালিব লিখেছেন “ আন্জুমান স্কুলের ছাত্র আজিম উদ্দিন আহমেদ স্কুলে ছাত্র সভায় বিশ্বকবির সোনার তরী কবিতার একটি প্যারোডি – “ একখানি ছোট নদী আমি একেলা, চারদিকে এম,এল এরা করিছে খেলা, দাড় বেয়ে গান গেয়ে যাও কোন বিদেশী, বারেক চালাও গুলি ঢাকাতে আসি ,রাশি রাশি ভারা ভারা, গুলি করা হল সাড়া…..” – আবৃতি করেন। এটি আবৃতি করার অপরাধে ১০ম শ্রেণীতে পড়াকালীন ১৯৫৩ সালে প্রথমে আন্জুমান স্কুল থেকে,পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্থান থেকে,সর্বশেষে পাকিস্থান থেকে আজীবনের জন্য তার ছাত্রত্ব (রাজটিকিট) বাতিল করা হয় । ব্যক্তি জীবনে এত বড় ক্ষতি নেত্রকোনায় আর কখনও হয়নি।“ তবে ৬২ বছর পর ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সরকারের পক্ষে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. তরুণ কান্তি শিকদার তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেত্রকোনা আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেন।
মৃত্যুঃ ভাষা সৈনিক আজিম উদ্দিন আহমেদ ১৬ জুলাই ২০২২ সকাল ৭টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।