বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) ইজাজ আহমেদ চৌধুরী

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মোঃ আহমেদ  চৌধুরীর কণিষ্ট পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) ইজাজ আহমেদ চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৫ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায়।ব্যক্তিগত জীবনে তিন সন্তানের পিতা ইজাজ আহমেদ চৌধুরী। তার ৩ সন্তানই বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

শিক্ষা ও কর্মজীবন

সুনামগন্জ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করেন।১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৬৯ সালের ১৯ এপ্রিল ৪০তম পিএমএ দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ নানা পদে দায়িত্ব পালন করেন ইজাজ আহমেদ চৌধুরী। কর্মজীবনে ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, বাংলাদেশ রাইফেলসের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ২৫ মে বাধ্যতামূলক অবসর পাঠানো হয় তাকে।মেজর জেনারেল (অব.) ইজাজ আহমেদ চৌধুরী বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আকিকুর রেজা ও মধ্যনগরের সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা জনাব নুরুল ইসলামের মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে গেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান

২৫ মার্চ ঢাকায় গণহত্যার পর দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলের মেজর কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লাহর নেতৃত্বে বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি বহু যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে আশ্রমবাড়ি সাব সেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন আজিজুর রহমান। অক্টোবর মাসে এস ফোর্স গঠিত হলে আজিজুর রহমানকে এস ফোর্সের ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে আশ্রমবাড়ি সাব সেক্টরের অধিনায়কের দায়িত্ব পান ইজাজ আহমেদ চৌধুরী।  জনাব ইজাজ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাবেক আমলা মধ্যনগর থানা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জনাব মোঃ আকিকুর রেজা ভ‚ইয়ার মাধ্যমে     ক্যাপ্টেন মান্নান ও মহেষখলা ক্যাম্পের উর্ধতন পরিচালকবৃন্দ তথা জনাব মেহের আলী,[1] খালেকদাদ চৌধুরীর সাথে অত্যন্ত গোপনে তথ্য আদান প্রদান করতেন। তথ্য আদান প্রদানকারী হিসেবে কাজ করেছেন জনাব সৈয়দ আলী তাং ও হাজী গাজী নবী নওয়াজ। স্বাধীনতা বিরোধী ও দুষকৃতিকারীদের (যাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় লুন্ঠন ও নিরাপরাধ মানুষদেরকে হত্যার বহু অভিযোগ ছিল) দ্বারা প্রাণনাশের হুমকি সত্ত্বেও ওরা দমে যাননি।

মৃত্যু: বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) ইজাজ আহমেদ চৌধুরী ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ তিনি নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।

পুরষ্কার ও সম্মানণা

ষাটের দশকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য “Bangladesh Muktijudho Research Institute Silver Award-2025[2] সম্মাননা প্রদানের জন্যে মনোনীত করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ

  1.  সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১-১২
  2.  ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” বীর মুক্তিযোদ্ধা ইজাজ আহমেদ চৌধুরী”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ২৯
 

0

Subtotal