গবেষক আহমেদ সামির
শিক্ষাজীবন: ১৯৩৭ সালে তিনি ময়মনসিংহ থেকে মেট্টিক পাশ করেন।
রাজনৈতিক জীবন: তিনি পাকিস্তান সৃষ্টির পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী-মুসলিম লীগে যোগদান করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।‘৬০ সালে নেত্রকোণা পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন। ‘ ৬২ সালে পুনর্গঠিত আওয়ামী লীগের নেত্রকোণা মহকুমা শাখার আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ‘ ৬৪ সালে সম্মিলিত রিরোধী দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোণা পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ‘৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে অসহযোগ আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান: ‘৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নেত্রকোণার ঐতিহাসিক মোক্তারপাড়া মাঠে পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে নেত্রকোণায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মার্চপাস্ট-এ সালাম গ্রহণ করেন।‘৭১ সালের ২৫ এপ্রিল নেত্রকোণা শহর পাক হানাদার বাহিনী দখল করে নেয়; তখন এন আই খান এর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ভারতীয় সীমান্তে বাঘমারা নামক স্থানে গমণ করেন এবং বাঘমারায় তাঁর নেত্বত্বে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের গোড়াপত্তন হয়। গোটা পরিবারসহ মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন অগ্রসৈনিক।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক: রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৬৩ সনের জানুয়ারি মাসে মধুমাছি কচিকাঁচার মেলার উপদেষ্টা মন্ডলীর সম্মানীত সদস্য ছিলেন । মধুমাছি কচিকাঁচার মেলার প্রধান উদ্যেক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মেহের আলী [1][2][3][4]কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মেলার পরিচালক হিসেবে ছিলেন জনাব এডভোকেট একে ফজলুল কাদের, আর উপদেষ্টা মন্ডলীতে অন্য যারা ছিলেন- সর্বজনাব জনাব আব্দুল খালেক, জনাব খালেকদাদ চৌধুরী, এডভোকেট ফজলুর রহমান খান, ডা. জগদীশ চন্দ্র দত্ত ,মাওলানা ফজলুর রহমান খান,হাবিবুর রহমান খান প্রমুখ। জনাব মেহের আলী শামসুজ্জোহাকে আহ্ববায়ক ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আয়েশা খানমকে আহ্ববায়িকা করে কমিটি গঠন করে দেন। নেত্রকোণা শহরের সবকটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
মৃত্যু: অসাম্পদায়িক প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব জনাব এন আই খান ১৯৮০ সালের ১৪ মার্চ মোক্তারপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে শেখ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পুরষ্কার ও সম্মানণা: ষাটের দশকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য “Bangladesh Muktijudho Research Institute [5][6][7][8]Silver Award-2023” সম্মাননা প্রদানের জন্যে মনোনীত করা হয়।