অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার
ভাষা আন্দোলন [১]ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংঘটিত এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম। যদিও ১৯৫২ সালে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে, তবে এর সূচনা ঘটে ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরপরই। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে মাতৃভাষাপ্রেমী বাঙালিদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের জন্ম নেয়। ধীরে ধীরে সেই প্রতিবাদ রূপ নেয় গণআন্দোলনে, যা ঢাকা থেকে শুরু হয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনে তৎকালীন মহকুমা শহর নেত্রকোনাও ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাব উত্থাপনঃ ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষার দাবিতে সংঘটিত প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে নেত্রকোনার ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতার কারণে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে পূর্ব বাংলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এবং ২৯ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে প্রতিবাদ দিবস ও ধর্মঘট পালিত হয়। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ১১ মার্চ সারাদেশে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হলে সেই কর্মসূচি নেত্রকোনাতেও পালিত হয়। সে সময় নেত্রকোনায় ছাত্র ফেডারেশন ছাড়া অন্য কোনো ছাত্র সংগঠন না থাকলেও দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়, আঞ্জুমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও নেত্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ওই দিন শহরের দোকানপাট বন্ধ থাকে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়।
ভাষা আন্দোলনে নেত্রকোনায় ছাত্রদের অংশ গ্রহণ: ছাত্র ফেডারেশনের নেতা নিখিল দাশের নেতৃত্বে ফুলে হুসেন, ফজলুর রহমান খান, অমল সেন, মনতোষ ধর, প্রভাত চক্রবর্তী, মনীন্দ্র চক্রবর্তী, আব্দুল করিমসহ অনেক ছাত্র শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা ফৌজদারি আদালতের সামনে রাস্তায় শুয়ে মহকুমা প্রশাসক গিয়াসউদ্দিন আহমেদের আদালতে প্রবেশে বাধা দেন। ছাত্রদের এ আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা ওয়াজেদ আলী, শশীন চক্রবর্তী ,তৎকালীন তমদ্দুন মজলিসের নেত্রকোনা শাখার সভাপতি (পরব্তীতে “একুশে পদক” প্রাপ্ত সাহিত্যিক এবং বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতাষ্ঠাতা সভাপতি) ভাষা সৈনিক সাংবাদিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী[২] [৩][৪]ও আব্দুল খালেক [৫] [৬][৭][৮][৯](পরবর্তীতে এমপি) প্রমুখ।
১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্র-জনতার মধ্যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘোষণার প্রভাব নেত্রকোনাতেও পড়ে এবং ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতারা আরও সংগঠিত হতে থাকেন।
১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন পুনরায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ভাষা আন্দোলন নতুন করে জ্বলে ওঠে। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ নেত্রকোনায় ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। নেত্রকোনা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে সমবেত হয়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভ মিছিলে যারা অংশগ্রহন করেছিলেন-সর্বজনাব সত্যব্রত রায় চৌধুরী, মিহির মজুমদার, ডাঃ আব্দুর রহমান খুশু, আব্বাছ আলী খান, এনআই খান,[১০]পুলিন বিহারী চৌধুরী, মোহিনী মোহন সেন, রমেশ ধর, রামশংকর সরকার, বাদশা মিয়া, সুধীর মোক্তার, বাবলু ধর, ডাঃ মৃণাল বিশ্বাস, আব্দুস শহীদ, কিতাব আলী, মুখলেছুর রহমান ফকির, আজিম উদ্দিন আহমেদ,[১১] মোঃ মেহের আলী, [১২][১৩][১৪]শামছুল হক তালুকদার, আব্দুল হেকিম, আব্দুস শহীদ, আলতাবুর রহমান খান, আব্দুল মজিদ, প্রদ্যোথ নাথ ভাদুড়ী, প্রদীপনাথ ভাদুড়ী,কামাল উদ্দীন আহমেদ,কবি আল আযাদ,আব্দুল আলী তালুকদার প্রমুখ।
ভাষা আন্দোলনে পেশাজীবিদের সমর্থনঃ এই আন্দোলনে অংশ নেন বহু ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক কর্মী। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাসে না যাওয়ার শপথ গ্রহণ করেন। আন্দোলনে শিক্ষকদেরও সক্রিয় সমর্থন ছিল। দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ছাত্রদের ওই আন্দোলনে জোরালো সমর্থন দেন চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের রেক্টর সুখরঞ্জন চক্রবর্তী ও দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের রেক্টর এবং অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট জ্ঞানেশ রায় ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ম্যানেজিং কমিটির জরুরী সভা ডাকেন। সভায় কমিটির সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট প্রফুল্ল চৌধুরী এবং শিক্ষক প্রতিনিধি মৌলানা আব্দুল কাদের ভাষা আন্দোলনের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়কেই আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নেত্রকোনার ভাষা আন্দোলনে সংগ্রাম কমিটি গঠণ: ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আঞ্জুমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র কিতাব আলী এবং নেত্রকোনা কলেজের ছাত্র আব্দুল কদ্দুস। এছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় শান্তি ভট্টাচার্য ও শাহ আব্দুল মোত্তালিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ওই দিনই ঢাকায় সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার খবরে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে নেত্রকোনা কলেজের অধ্যাপক আমীরুল্লাহ বাহার চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও অছিম উদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে গঠন করা হয় সংগ্রাম কমিটি। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- ওয়াজেদ আলী, আব্দুল খালেক, সত্যকিরণ আদিত্য, কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাস, নকূল চন্দ্র সিংহ, এম এ মজিদ ও ফজলুর রহমান খান। আমীরুল্লাহ বাহার চৌধুরী দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করলে পরবর্তীতে অছিম উদ্দিন আহমেদকে আহ্বায়ক এবং গাজী মোস্তফা হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কেএম ফজলুল কাদেরও তাদের সঙ্গে এসে আন্দোলনে যোগ দেন। শহরে প্রতিদিন চলতে থাকে মিছিল-মিটিং। ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়ে আটপাড়া, মদন, কেন্দুয়া, বারহাট্টা, মোহনগঞ্জসহ অন্যান্য থানা সদরেও। ২৫ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনকারীরা তখনকার এমএলএ আহসান আলী মোক্তারকে তার চেম্বারে ঘেরাও করলে পুলিশ রুকন উদ্দিন নামে একজনকে গ্রেফতার করে। বেদানা নামে এক কর্মী পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ফজলুর রহমান খান ও আব্দুল কুদ্দুসসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় সত্যকিরণ আদিত্য, আমীরুল্লাহ বাহার চৌধুরী, শাহ আব্দুল মোত্তালিবসহ অনেকের নামে। তৎকাালীন তমদ্দুন মজলিসের নেত্রকোনা শাখার সভাপতি (পরব্তীতে “একুশে পদক” প্রাপ্ত সাহিত্যিক এবং বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতাষ্ঠাতা সভাপতি) ভাষা সৈনিক সাংবাদিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী [১৫]ভাষা আন্দোলনে নেত্রকোনায় অত্যন্ত গুরুতবপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর পক্ষে প্রচারপত্র বিলি করায় নেজামে ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ক্ষোভ আরও বাড়ে। বিচারপতি টিএইচ এলিসের নেতৃত্বে একুশের গুলিবর্ষণের ঘটনার তদন্তম কমিশন গঠনের আগে ৭ মার্চ পর্যন্ত নেত্রকোনায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।
নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনে আরও যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে- সর্বজনাব সত্যব্রত রায় চৌধুরী, মিহির মজুমদার, ডাঃ আব্দুর রহমান খুশু, আব্বাছ আলী খান, এনআই খান,পুলিন বিহারী চৌধুরী, মোহিনী মোহন সেন, রমেশ ধর, রামশংকর সরকার, বাদশা মিয়া, সুধীর মোক্তার, বাবলু ধর, ডাঃ মৃণাল বিশ্বাস, আব্দুস শহীদ, কিতাব আলী, মুখলেছুর রহমান ফকির, আজিম উদ্দিন আহমেদ, মোঃ মেহের আলী,[১৬] শামছুল হক তালুকদার, আব্দুল হেকিম, আব্দুস শহীদ, আলতাবুর রহমান খান, প্রদ্যোথ নাথ ভাদুড়ী, প্রদীপনাথ ভাদুড়ী,কামাল উদ্দীন আহমেদ,কবি আল আযাদ,আব্দুল আলী তালুকদার ও আব্দুল মজিদের নাম উল্লেখযোগ্য।ভাষা আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে নেত্রকোনায় একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। “ভাষা সংগ্রামে নেত্রকোনা স্মারক গ্রন্থের “নেত্রকোনায় মহান ভাষা আন্দোলন” প্রবন্ধে ভাষা সৈনিক শাহ আব্দুল মোতালিব লিখেছেন “ আন্জুমান স্কুলের ছাত্র আজিম উদ্দিন আহমেদ স্কুলে ছাত্র সভায় বিশ্বকবির সোনার তরী কবিতার একটি প্যারোডি — “ একখানি ছোট নদী আমি একেলা , চারদিকে এম,এল এরা করিছে খেলা, , দাড় বেয়ে গান গেয়ে যাও কোন বিদেশী, বারেক চালাও গুলি ঢাকাতে আসি, রাশি রাশি ভারা ভারা গুলি করা হল সাড়া…..” – আবৃতি করেন। এটি আবৃতি করার অপরাধে ১০ম শ্রেণীতে পড়াকালীন ১৯৫৩ সালে প্রথমে আন্জুমান স্কুল থেকে,পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্থান থেকে,সর্বশেষে পাকিস্থান থেকে আজীবনের জন্য তার ছাত্রত্ব (রাজটিকিট) বাতিল করা হয় । ব্যক্তি জীবনে এত বড় ক্ষতি নেত্রকোনায় আর কখনও হয়নি। তবে ৬২ বছর পর ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সরকারের পক্ষে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. তরুণ কান্তি শিকদার তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেত্রকোনা আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেন।
ভাষা আন্দোলনের স্মারকঃ ১৯৬৪ সালের আগে নেত্রকোনায় স্থায়ী শহীদ মিনার ছিল না। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সব আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু দত্ত উচচ বিদ্যালয়ের উত্তর পশ্চিম কোণে কাচারি রোডের সংযোগস্থলে তিন রাস্তার মোড়ে বর্তমান শহীদ মিনারের প্রধান গেইটের জায়গায় ১৯৬৪ সালে ত্রিভুজ আকৃতির প্রথম শহীদ মিনার[১৭] স্থাপন করা হয়। তৎকালীন নেত্রকোণা মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সর্বজনাব মেহের আলী ,সেক্রেটারী শামসুজ্জোহা, জামাল উদ্দিন আহমেদ( জনাব মেহের আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবার পর সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়), বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, মতিউর রহমান খান,আশরাফ আলী খান (খসরু),গাজী মোশারফ হোসেন, হাবিবুর রহমান খান(খসরু),সাখাওয়াত হোসেন এর নেতৃত্বে প্রথম শহীদ মিনারটি স্থাপিত হয়। ইট, সিমেন্ট, বালি দিয়ে ত্রিভুজ আকৃতির শহীদ মিনারটি ডিজাইন করেছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা রথীন ঘোষ ও বাদল মজুমদার। পরবর্তী সময়ে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সমস্ত কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দু ছিল এই শহীদ মিনার। ১৯৭১ সালে ২৩শে এপ্রিল পাক সেনারা নেত্রকোণায় এসেই তাদের দোসরদের দিয়ে এই শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে। স্বাধীনতার এক বছর পর ১৯৭২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে শহীদ মিনারের ধ্বংস্তুপের পাশে পৌরসভার ড্রেন সংলগ্ন জায়গাটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম এরশাদুর রহমান, সম্পাদক হায়দার জাহান চৌধুরীর নেতৃত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল মজুমদার, গাজী দেলোয়ার হোসেন, আলা উদ্দিন খান, আঃ রহিম, জহিরুল হক হিরা, আঃ মান্নান তালুকদার, নির্মল কুমার দাস, উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, মোঃ আলী সিদ্দিকী, সমীর ভদ্র রানা, অজয় সরকার, বিদ্যুৎ সরকার, বাবুল জোয়ারদার, খন্দকার আনিসুর রহমান, বিকাশ ঘোষ, ভোলা সাহা প্রমুখ দ্বিতীয় বারের মত অস্থায়ী কাগজের শহীদ মিনার তৈরী করে সাতদিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে। আলোচনা সভা আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থায়ী শহীদ মিনারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন নেত্রকোণা মহকুমা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সর্বজনাব ফজলুর রহমান খান । পরর্বতীতে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ রিলিফ কমিটির মাধ্যমে মাটি ভরাট করে শহীদ মিনারটির আধুনিক রুপায়ন সাধন করেন।
তথ্যসূত্রঃ
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (03rd Jan 2026)”নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস”
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” ভাষা সৈনিক জনাব সানাউল্লাহ নূরী”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৯
আহমদ, ভাষা সৈনিক আজিম উদ্দীন (২০২২)। অসমাপ্ত গল্প। ঢাকা: অনির্বান পাবলিকেসন্স। পৃ. ২, ১২।
Nuri, Sanaullah (25 June 1994). “Memorial discussion on Bir Muktijudha Meher Ali in Netrakona”. The daily Dinkal. p. 6.
চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “নেত্রকোণার রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ মরহুম জননেতা আব্দুল খালেক এমপি”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা পৃষ্ঠা 01-06
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে মধ্যনগর”, বিজয় একাত্তর ১১তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১-১২
চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান ( ১৪ডিসেম্বর ২০২৫),” মুক্তিযুদ্ধে নেত্রকোণা”, আলোরপথে ৫তম সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৫-২০
আহমেদ সামির (15 Jan 2026)” মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব-২”
আহমেদ সামির (15 Jan 2026)” মুক্তিযুদ্ধে মহেষখলা ও মধ্যনগর : হাওরের নীরব কান্না পর্ব-২”
চৌধুরী, হায়দার জাহান(সেপ্টেম্বর ২০২২). “জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা”, বিজয় একাত্তর পৃষ্ঠা 129-132
মোতালিব ,ভাষা সৈনিক শাহ আব্দুল (ফেব্রয়ারী ২০০৮),”নেত্রকোনায় মহান ভাষা আন্দোলন”,ভাষা সংগ্রামে নেত্রকোনা স্মারক গ্রন্থ , পৃষ্ঠা ২৬-২৯
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (২৩ ডিসেম্বর ২০২২),” স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী শহীদ মেহের আলী”, বিজয় একাত্তর ষষ্ঠ সংখ্যা , পৃষ্ঠা ১৩-৩৮
আচার্য, সাংবাদিক জয়ন্ত,( ১৪ ডিসেম্বর ২০২১),মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধীজীবিবৃন্দ” সাপ্তাহিক-২০০০ পৃষ্ঠা ২০-২৪
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২0),” নেত্রকোনা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ”, স্মরণে বঙ্গবন্ধু
বিশ্বাস ,সাংবাদিক কুন্তল (ফেব্রয়ারী ২০০৮),”নেত্রকোনায় ভাষা আন্দোলন”,ভাষা সংগ্রামে নেত্রকোনা স্মারক গ্রন্থ , পৃষ্ঠা ২০-২২
সরকার, অধ্যাপক ননী গোপাল (ফেব্রয়ারী ২০২0),” নেত্রকোনা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ”, স্মরণে বঙ্গবন্ধু
চৌধুরী, হায়দার জাহান(মে ২০২৩). “নেত্রকোণার শহীদ মিনারের ইতিকথা”, বিজয় একাত্তর সপ্তম সংখ্যা পৃষ্ঠা ৮১